বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিং কি ব্যয়বহুল? আসুন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

হাইব্রিড গাড়ি ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আর নির্মাতারা বাজারে নিত্য নতুন হাইব্রিড গাড়ি সরবরাহ করছে।
বাংলাদেশে গাড়ির বাজারে হাইব্রিড গাড়ি এখনও অপেক্ষাকৃত নতুন, এই ধরনের গাড়িগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিসেবা এখনও অজানা। বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও  সার্ভিসিং কতটা ব্যয়বহুল! আসুন বিস্তারিত আলোচনা করি।

১। হাইব্রিড গাড়ি ও নন হাইব্রিড[Internal Combustion Engine (ICE)] গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনুরূপঃ
অনেকেই মনে করেন যে উচ্চ-প্রযুক্তি, জটিল 'ইলেকট্রিক অংশগুলির কারণে হাইব্রিড গাড়ি সার্ভিসিং  ব্যয়বহুল হবে। প্রকৃতপক্ষে, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মোটামুটি অনুরূপ। হাইব্রিড গাড়িতে নিয়মিত সার্ভিসিং প্রয়োজন হয় যা সাধারণ গাড়ি থেকে আলাদা করে তোলে।
পেট্রোল ইঞ্জিনের কম ব্যবহারের কারণে, হাইব্রিড গাড়ীতে ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তনে সময়ের ব্যবধান বেশি হবে। নিশ্চিত হতে, ইউজার ম্যানুয়াল চেক করতে ভুলবেন না, যেখানে প্রস্তুতকারকের ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তনের ব্যবধানের উপর একটি সুপারিশ করেছেন।

২। দীর্ঘস্থায়ী ব্রেক প্যাডঃ হাইব্রিড গাড়িগুলিতে Regenerative Braking বৈশিষ্ট্য রয়েছে ফলে ব্রেক প্যাড কম তাপ এবং ঘর্ষণকে উপভোগ করে, যা তাদের দীর্ঘকাল স্থায়ী করে তোলে। হাইব্রিড গাড়ি চালানোর সময় আপনি ব্রেক প্রয়োগ করলে হাইব্রিড ব্যাটারি রিচার্জ হতে সহায়তা করে।
Subscribe YouTube -Click Here

৩। হাইব্রিড ব্যাটারি নিয়ে চিন্তাঃ সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সম্ভাব্য ক্রেতাদের হাইব্রিড গাড়ি সম্পর্কে। হাইব্রিড গাড়ির বৈদ্যুতিক অংশগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্রি ভাবে ডিজাইন করা, এবং বৈদ্যুতিক অংশে বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ/সার্ভিসিং প্রয়োজন হয় না।
টয়োটা মতে, ব্যাটারি জীবনকাল শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত 10 বছর বা 250,000 কিঃমিঃ বেশি চলতে সক্ষম হাইব্রিড ব্যাটারি।
একটি ব্যাটারি প্যাক প্রতিস্থাপনে 230,000TK থেকে 350,000TK (গাড়ী এবং মডেল উপর নির্ভর করে) প্রয়োজন হবে। সম্পুর্ণ ব্যাটারি প্যাক প্রতিস্থাপন না করে স্বল্প মূল্যে ব্যাটারি সেল পরিবর্তন করা যায়। তবে, একটি হাইব্রিড গাড়ী ক্রয় করা কার্যকর কারণ 250,000 থেকে 300,000 কিঃমিঃ আগে ব্যাটারি অচল হাওয়া অসম্ভব। এছাড়াও, আপনি একটি রিকন্ডিশন ব্যাটারি প্যাক প্রতিস্থাপন করতে পারেন (এটি আপনার নিজের ঝুঁকিতে ব্যবহার করুন) যা 70,000 টাকার বেশি খরচ হবে না।
প্রতিবার সার্ভিসিং এর সময় আপনার হাইব্রিড সিস্টেমের সংযোগগুলি পরীক্ষা করে দেখুন যাতে সবকিছু যথাযথভাবে কার্যকর থাকে।


৪।  হাইব্রিড যানবাহনে পারদর্শী (Technician)প্রযুক্তিবিদ/মিস্ত্রি নিশ্চিত করুনঃ
হাইব্রিড সিস্টেমগুলি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্সকে কাজে লাগায় যা একটি সাধারণ গাড়ির তুলনায় আরো জটিল (যদিও হাইব্রিড গাড়ির বৈদ্যুতিক অংশগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্রি ভাবে ডিজাইন করা)। আপনি যে কর্মশালায়(Workshop) যাচ্ছেন নিশ্চিত করুন সেখানে হাইব্রিড গাড়িতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত Technician এবং Workshop’এ কাজের জন্য সঠিক সরঞ্জাম রয়েছে।

Join Our Facebook CAR CONSULTING GROUP -Click Here

৫। হাইব্রিড গাড়িতে উপযুক্ত ইঞ্জিন Oil (তেল) ব্যবহার করুনঃ
Viscosity গ্রেড মোটর তেলের ঘনত্ব নির্ধারণ করে। বেশিরভাগ গাড়ি নির্মাতা হাইব্রিড গাড়িতে 0W-20 গ্রেডের Fully-Synthetic ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করার সুপারিশ করেন। এর অর্থ হল তেল 20W বেশি ঘনত্ব হতে পারবে না। অন্য দিকে, সাধারন গাড়ি 30W গ্রেড ব্যবহার করে।
তবে, তেল প্রধানত গাড়ির মডেল উপর নির্ভর করে। তেল এবং গ্রেড সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউজার ম্যানুয়াল বইটি দেখুন। ভুল ওয়েল ব্যবহার ইঞ্জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারে কিছু সুবিধা-অসুবিধা দেয়া হলো-
সুবিধাঃ
১। পরিবেশদূষণ কম.
২। অল্প খরচ অধিক দূরত্ব.
৩। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাস.
৪। অধিক স্থায়িত্ব.
৫। উচ্চ বিক্রয় মুল্য.

অসুবিধাঃ
১। তুলনামূলক স্লো স্পিড.
২। দূর্ঘটনায় ব্যয়বহুল হতে পারে.
৩। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ অভাব.
৪। ব্যাটারিতে উচ্চ ভোল্টেজ উপস্থিতি.
৫। নিয়মিত টায়ার প্রেসার পরিক্ষা করা. ইত্যাদি।
*বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে... যতদিন আমরা সম্পুর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে না পারি আমাদের হাইব্রিড/প্লাগ ইন হাইব্রিডে সস্তুষ্ট থাকতে হবে।